কলা খাওয়ার অজানা কিছু উপকারিতা

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সবাই জানেন। ওজন কমাতে ও ত্বক ভালো রাখার পাশাপাশি মলাশয়ের সুস্থতাও রক্ষা করতে পারে কলা। তবে নিয়মিত কলা খেলে দেহে আরও নানাবিধ উপকার করে যা অনেকেরই অজানা।

ত্বকের উন্নতি

যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিদ এবং ‘দ্যা ক্যান্ডিডা’ বইয়ের লেখক লিসা রিচার্ড ইটদিস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “একটি মাঝারি আকারের কলাতে দৈনিক চাহিদার ১৩ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ থাকে। যা খাবারের আকারের তুলনায় যথেষ্ট।” তার মতে, ‘ম্যাঙ্গানিজ গ্রহণ করা ত্বক উন্নত করতে সাহায্য করে। ম্যাঙ্গানিজ কোলাজেন তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা তারুণ্য ধরে রাখে এবং উন্মুক্ত রেডিক্যাল থেকে হওয়া ত্বকের ক্ষতি ও বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে।

মলাশয়ের সুস্থতা

নিউ ইয়র্ক’য়ের পুষ্টি পরামর্শক ও সুস্থতা-বিষয়ক ওয়েবসাইট ’দ্যা আনউইন্ডার’য়ের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জন ফকস ২০১৭ সালের এক পুষ্টি গবেষণার কথা ইঙ্গিত করে বলেন, “কলায় ‘প্রতিরোধী শ্বেতসার’ বলে কিছু আছে। সাধারণত, শ্বেতসার শুনতে নেতিবাচক মনে হয়। তাই অনেকেই এড়িয়ে চলেন। কিন্তু এটা প্রকৃতপক্ষে, ‘শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড’ উৎপাদনে সহায়তা করে বলে মনে করেন তিনি। মলাশয়ের সুস্থতায় এই ‘শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড’ গুরুত্বপূর্ণ রাখে। তাই মলাশয়ের সুস্থতায় কলা খাওয়া উপকারী।

পেশির টান পড়া কমায়

জন ফকস বলেন, “কলাতে আছে ইলেক্ট্রোলাইট যা দেহকে আর্দ্র রাখে।” দেহে খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে ও পেশির টান পড়া কমাতে কলা খাওয়া উপকারী।

লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে

নিউ ইয়র্ক’য়ের ‘ইন্সটিটিউট অফ কালিনারি এডুকেশন’য়ের পুষ্টি বিভাগের পরিচালক সেলিন বিচম্যান ব্যাখ্যা করেছেন যে, “কলার পটাসিয়ামের মাত্রা সামগ্রিক খাদ্যতালিকাগত স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যদি অন্য খাবারের সঙ্গে লবণ বেশি খাওয়া হয়ে থাকে।”

কলা পটাসিয়ামের ভালো উৎস, যা সোডিয়ামের নেতিবাচক প্রভাবগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান হিসেবে কাজ করে। ভালো মাত্রায় পটাশিয়াম খাবার তালিকায় যোগ করা হৃদ স্বাস্থ্য ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো’র পুষ্টিবিদ ম্যারি রিটজের মতে, “অন্যান্য ফলের তুলনায় কলাতে চিনি ও ক্যালরির পরিমাণ বেশি বলে খ্যাতি রয়েছে। তবে এতে পর্যাপ্ত আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় তা ওজন কমাতে সহায়ক।”

দুইবেলার খাবারের মাঝে হালকা নাস্তা হিসেবে কলা খাওয়া উপকারী বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.